সংবাদ শিরোনামঃ
নারীঘটিত কেলেঙ্কারির অভিযোগে বুড়িগোয়ালিনী গাজিবাড়ি জামে মসজিদের ইমাম অপসারিত বিশ্ব পরিবেশ দিবসে শ্যামনগরে ‘ইয়ুথ ফর সুন্দরবন’-এর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি কুলিয়ায় জমিজমা সংক্রান্ত কেন্দ্র করে পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত, থানায় অভিযোগ  মুরুব্বীদের দোয়া মাথায় নিয়ে এগিয়ে চলছে আমাদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী ইঞ্জিঃ এস,এম জাহিদুর রহমান শোভন পাইকগাছা উপজেলা সূশীল সমাজ সংগঠন(সিএসও)র অর্ধ-বার্ষিক সভা অনুষ্ঠিত শ্যামনগরে বৃদ্ধা মায়ের মুখে লাথি মেরে দাঁত ভাঙার অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক ছেলে গ্রেপ্তার  শুকনা পাতায় মর মরো করে ধুকছে ছয় লক্ষ ৬৬ হাজার টাকার গাছ,সরকারি খাল খননে অর্ধ কোটি টাকার প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ কালিগঞ্জে জিয়া পরিষদের কমিটি গঠন অলিউল সভাপতি, নুরুজ্জামান সম্পাদক ও শিমুল সাংগঠনিক  মায়ের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ: ছেলের লাথিতে বৃদ্ধার দাঁত ভাঙল, থানায় মামলা বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের অফিস সম্পাদকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি
শুকনা পাতায় মর মরো করে ধুকছে ছয় লক্ষ ৬৬ হাজার টাকার গাছ,সরকারি খাল খননে অর্ধ কোটি টাকার প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

শুকনা পাতায় মর মরো করে ধুকছে ছয় লক্ষ ৬৬ হাজার টাকার গাছ,সরকারি খাল খননে অর্ধ কোটি টাকার প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

আব্দুল্লাহ আল মামুন ​বিশেষ প্রতিনিধি:

বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার ​বাস্তবায়নে খাল খনন কর্মসূচি ও অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির অধীনে দেবহাটা ইউনিয়নের বোয়ালমারী খাল পুন:খননে সরকারের পানি নিষ্কাশন ও কৃষি সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে গৃহীত খাল খনন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।

প্রকল্পের শুরু থেকেই নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে লক্ষ লক্ষ টাকা লোপাট করা হচ্ছে বলে স্থানীয় এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী কৃষকদের পক্ষ থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে।

​অভিযোগের বিবরণ ও অনিয়মের ব্যাপারে

​স্থানীয় প্রশাসন ও ভুক্তভোগীদের সূত্র থেকে জানা গেছে, উপজেলা সদরে অবস্থিত বোয়ালমারি খালটি পুনঃখননের জন্য প্রায় ৫১ লক্ষ ৫৩ হাজার ৯ শত ৯৫ টাকার একটি প্রকল্প বরাদ্দ দেওয়া হয়। এরমধ্যে , বোয়ালমারী খাল পুনঃখনন প্রকল্পে মোট ১৩ হাজার ২৬৯ দশমিক ৪৪০ ঘনমিটার মাটি অপসারণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পে ১১৯ জন উপকারভোগী শ্রমিক দৈনিক ৫ শত টাকা হারে কাজ করার কথা থাকলেও বাস্তবে দেখা গেছে তার ভিন্ন রূপ। সরোজমিনে দেখা যায়,

প্রকল্পের শ্রম ব্যয় বাবদ প্রায় ৫১ লাখ ৫৩ হাজার ৯৯৫ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া স্লোপ স্ট্যাবিলাইজেশন ও বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের জন্য পৃথকভাবে ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৪৬০ টাকা এবং বৃক্ষরোপণের জন্য ৬ লাখ ৬৬ হাজার ৬০০ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। তবে কাজের শুরু থেকেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে নামমাত্র কাজ করে বিল তুলে নেওয়ার পাঁয়তারা করছে। তাদের লাগানো গাছের অধিকাংশ চারা এতই নিম্নমানের যে শুকনো পাতায় মরমরো করে ধুকছে। যা পুনর্জীবিত হওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।

স্থানীয়দের অভিযোগ সূত্রে, খালের নকশা অনুযায়ী যতটুকু গভীর ও প্রশস্ত করার কথা ছিল বাস্তবে শুধু খালের ওপরের স্তরের মাটি কেটে পাড়ে স্তূপ করে বেশির ভাগ জায়গায় পূর্বে চেয়ে খালটি ছোট করে ফেলা হয়েছে। যা সামান্য বৃষ্টিতেই ধসে আবার খালে পড়ার আশঙ্কা।

​নিয়ম অনুযায়ী শ্রমিক দিয়ে সুচারুভাবে অধিকাংশ কাজ করানোর কথা থাকলেও প্রায়ই কাজ ভেকু মেশিন (এস্কেভেটর) মেশিন দিয়ে দায়সারাভাবে মাটি কেটে কাজ শেষ দেখানো হচ্ছে।

​অনেক ক্ষেত্রে শ্রমিক নিয়োগের ভুয়া তালিকা (মাস্টাররোল) তৈরি করে সরকারি অর্থ আত্মসাতের ও অভিযোগ উঠেছে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির বিরুদ্ধে।

​ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও কৃষকরা খাল খনন কাজের এই বেহাল দশায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। তাদের মতে, বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধার জন্য এই খালটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

​”কিন্তু খালটি খননের নামে শুধু আইওয়াশ করা হয়েছে। যাহা তেমন কোন কাজেই আসবে না এলাকার মানুষের। খালের মাঝখানের মাটি কাটা হয়নি, শুধু দুই পাশ থেকে একটু মাটি তুলে পাড়ে রাখা হয়েছে। প্রথম বৃষ্টিতেই এই মাটি আবার খালে চলে যাবে। আমাদের আয় করের টাকার এভাবে হরিলুট আমরা মেনে নিতে পারি না।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছু স্থানীয় কয়েকজন মৎস্য ঘের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দা এবং কৃষক বলেন, আগের ছাড়া খাল ছোট হয়েছে। আর নাম মাত্র গাছ রোপন করা হয়েছে।

প্রকল্পের সভাপতি আব্দুল মতিন বকুল বলেন, আগের গাছ গুলো উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার নির্ধারিত ঠিকাদার দিয়ে রোপণ করা হয়, কিন্তু গাছ গুলা নিন্মমান এবং মারা যাওয়ার আমরা আগামী কয়েকদিনের ভিতরে নতুন করে গাছ রোপণ করবো,

​দুর্নীতির এই অভিযোগের ব্যাপারে প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মফিজুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি

বলেন ​”কাজটি এখনও চলমান রয়েছে। যদি কোনো স্থানে নকশা অনুযায়ী কাজ না হয়ে থাকে, তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বিল দেওয়া হবে না এবং পুনরায় সঠিক নিয়মে কাজ করিয়ে নেওয়া হবে।”

​অন্যদিকে, স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিলন সাহা জানিয়েছেন, খালের কাজে অনিয়মের অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অপর দিকে ​এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে ঐই লোক দেখানো কাজ বন্ধ করে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটির মাধ্যমে পুরো প্রকল্পের কাজের সুষ্ঠু তদন্ত করা হোক। দুর্নীতির সাথে জড়িত ঠিকাদার ও কর্মকর্তাদের শাস্তির মুখোমুখি করে খালের প্রকৃত খনন কাজ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *